জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে এক আইসিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে গোপনে এভিডেভিট মূলে বিয়ের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে জানা গেছে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন সদ্য নবম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রেখে তাকে কাজীপুর উপজেলায় নিয়ে এভিডেভিট মূলে বিয়ে সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার গুজাবাড়ি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। তিনি এর আগেও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার চর পোগলদিঘা গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে কানিজ ফাতেমাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে মাসফিয়া ইবনাত নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষক লিটনের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা।
কানিজ ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন,
“যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের পর থেকেই আমাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই শিক্ষার্থীকে গোপনে বিয়ে করেন।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইমন হাসান ও সুমন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা তার সন্তানের মতো। স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষক কীভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে পারে? আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং তাকে আর বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না।”
একই দাবি জানান বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুরাদ হাসান ও জীবন মাহমুদ। তারা বলেন,
“একজন শিক্ষক হয়ে এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অপসারণ করতে হবে।”
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বড় নানা আব্দুর রশিদ বলেন,
“পরিবারকে কিছু না জানিয়ে গোপনে কাজীপুরে নিয়ে এভিডেভিট মূলে বিয়ে করা হয়েছে। এটি সামাজিক ও নৈতিকভাবে অত্যন্ত জঘন্য কাজ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরও জানান, বিয়ের পর শিক্ষার্থীকে সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া এলাকায় তার মামা হাফিজুর রহমান এর বাসায় রাখা হয়েছে বলে গোয়াখাড়া গ্রামের রোকন চাকলাদার তাকে অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“ঘটনাটি সম্পর্কে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা আগে কিছুই জানতেন না। তবে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে বের করে দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে আপাতত তিন দিনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রুহুল আমীন বেগ বলেন,
“বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনিমুজ্জামান বলেন,
“এখনো কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করেনি। তবে বিষয়টি জানতে পারলে তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন