বকুল হোসেন হৃদয় | নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 'ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের' অভিযোগ তুলে সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। একই সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।
শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর বিজয়নগরস্থ হোটেল অরনেট হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত “জুলাই সনদ বাস্তবায়নই গণভোটের অধিকার” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
ফলাফল কারসাজির অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি: সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে যে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার পেছনে সুপরিকল্পিত 'ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের' হাত রয়েছে। এই প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কারসাজির মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশিত রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।
নেতারা জোর দিয়ে বলেন, "নির্বাচনী এই কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা আরও তলানিতে যাবে।"
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাজপথের হুঁশিয়ারি: দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ফল বলে উল্লেখ করেন নেতৃবৃন্দ। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "এই গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ বা অবমূল্যায়নের কোনো অপচেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।"
সাম্প্রতিক গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারকে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।
সভায় উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে এই হাই-প্রোফাইল আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ:
প্রধান অতিথি: ডাঃ শফিকুর রহমান এমপি (সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত)।
প্রধান আলোচক: ডক্টর কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ (সাবেক মন্ত্রী ও এলডিপি সভাপতি)।
বিশেষ অতিথি: মাওলানা মামুনুল হক (আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) এবং মোঃ আখতার হোসেন এমপি (সদস্য সচিব, এনসিপি)।
অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি: সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এবি পার্টির চেয়াম্যান মজিবুর রহমান ভুইয়া মঞ্জু, বিডিপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুছা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী এবং এনডিপির চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহের প্রমুখ।
লেবার পার্টির অন্যান্য বক্তারা: এছাড়াও দলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রাজু, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামসহ খুলনা, বরিশাল, গাজীপুর, রাজশাহী মহানগর এবং বিভিন্ন জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব মিশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন