নিজস্ব প্রতিবেদক, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় হাতুড়ে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় একটি পোল্ট্রি খামারের প্রায় এক হাজার মুরগির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে ঋণের টাকায় গড়ে তোলা খামারি মো. আইয়ুব আলীর কয়েক লাখ টাকার স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সান্ডালপুর গ্রামে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আইয়ুব আলী জানান, সম্প্রতি তার খামারের কিছু মুরগি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক প্রতিকারের আশায় তিনি স্থানীয় এক ফার্মেসি বা ওষুধ বিক্রেতার শরণাপন্ন হন। ওই ব্যক্তির দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করার পরপরই খামারের মুরগিগুলো অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খামারের অধিকাংশ মুরগি ছটফট করে মারা যায়।
দিশেহারা হয়ে আইয়ুব আলী পরে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার এক পশু চিকিৎসকের (সার্জন) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পরামর্শে দ্রুত নতুন ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। খামারের মেঝেতে পড়ে ছিল কেবল শত শত মৃত মুরগি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে খামারি মো. আইয়ুব আলী বলেন, "অনেক কষ্ট করে, মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে খামারটি দাঁড় করিয়েছিলাম। মুরগিগুলো বড় হয়ে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। ভেবেছিলাম এবার হয়তো লাভের মুখ দেখব আর ঋণ শোধ করব। কিন্তু ভুল চিকিৎসায় আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি এখন পথে বসে গেছি।"
এই ঘটনায় সান্ডালপুরসহ আশেপাশের এলাকার অন্যান্য পোল্ট্রি খামারিদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় লাইসেন্স ও অভিজ্ঞতাবিহীন হাতুড়ে চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাদের ভুল পরামর্শ ও ওষুধের কারণে প্রতিনিয়তই এমন সর্বনাশের শিকার হচ্ছেন সাধারণ খামারিরা। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, মৃত মুরগিগুলো থেকে যেন এলাকায় কোনো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে দ্রুত সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরে আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন